রিপোর্টে সোমা আক্তার
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক এমপি বলেছেন, নির্বাচনের আগে রাজপথে স্লোগান দিয়ে জনগণের কাছে ভোট চাওয়া হয়েছে। এখন আর ভোট চাওয়ার সময় নয়; এখন প্রধান দায়িত্ব হলো নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা।
সোমবার (৯ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় সমাজকল্যাণ ফোরামের উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, দলের বিভিন্ন কাজ তারেক রহমান–এর নির্দেশনায় এবং খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করা হয়েছে। সেই কাজগুলোই ভোটের সময় জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এখন দলের নেতাকর্মীদের সততা বজায় রেখে তারেক রহমানকে সমর্থন দিতে হবে এবং জনগণকে জানাতে হবে যে নির্বাচনের আগে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফারুক বলেন, জনগণ বিপুল ভোটে সমর্থন দিয়েছে বলেই দল ক্ষমতায় এসেছে। বহু অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করে নেতাকর্মীরা দলকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। সেই অর্জনের সফলতা নিশ্চিত করতে সঠিক ব্যক্তিকেই দায়িত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, সংসদ ১২ তারিখ বসবে এবং সেখানে বিরোধী দলের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো ২১৩ জন সংসদ সদস্য মনোনয়ন দিয়ে নিয়ে এসেছেন তারেক রহমান। দেশের মন্ত্রিসভাও গঠন করা হয়েছে যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে।
এই সংসদ সদস্য বলেন, জাতীয় সংসদে যখন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন, তখনই বোঝা গেছে বাংলাদেশ নতুন ইতিহাসের পথে এগোবে। নতুন সরকারের অধীনে আর গণতন্ত্রের প্রতি অবহেলা থাকবে না, বিনা কারণে গ্রেপ্তার, গুম বা মিথ্যা মামলা হবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি উদ্যোগ, এক কোটি গাছ লাগানো এবং খাল খননের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসবের মাধ্যমে নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে কাজের মিল দেখা যাচ্ছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফারুক বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ‘খাই খাই’ মানসিকতা থেকে বিরত থাকতে হবে।
আন্দোলনের সময় পল্টন ও গোলাপবাগের কর্মসূচির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর দলের কর্মীরা পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নয়।
তিনি বলেন, শুরুতেই যে বার্তা দেশের মানুষকে দেওয়া হয়েছে, তাতে বোঝা যায় আগামী পাঁচ বছরে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। তাই সবাইকে বেশি বেশি দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি, যেন তারেক রহমান দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন।
ফারুক বলেন, কে এমপি হবেন বা কে মন্ত্রী হবেন—সেটি বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হলো দল, শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। তাঁর বিশ্বাস, এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে।
সংগঠনের সভাপতি মনজুর রহমান ভূইয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সোহেল রান্নার সঞ্চালনায় এ সময় আরো বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান,মৎস্যজীবি দলের নেতা ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।
Leave a Reply